
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সব মানুষের সমান অধিকারের কথা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন আইন, ঘোষণায় বা সনদে বলা হলেও আসলে কি তাই । সমঅধিকারের কথা বলা থাকলেও একটা বিরাট বৈষম্য চোখে পড়ে নারী-পুরুষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে। শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে আজও পৃথিবীর প্রতিটি কোণে নারীরা অবহেলিত, নির্যাতিত, বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে তারা । অথচ আমরা ভুলে যাই বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর সেই বিখ্যাত উক্তি, কোন কালে এক হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি, প্রেরণা দিয়েছে শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষ্ণী নারী।
কেন নারীরা পিছিয়ে
১। অনেক নারীরা মনে করেন, জীবনে বিয়ে পর তার কোন স্বপ্ন থাকতে পারে না । এর পেছনে তাদের রয়েছে বহু যুক্তি। কারন, বিয়ের পর স্বামী যা বলবে তা মেনে নিতে হবে , বিয়ের পর তার স্বামী বা তার পরিবার তাকে চাকরি করতে নাও দিতে পারে, আর করতে দিলেও তার প্রতি হতে পারে মানুষিক অত্যাচার ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই নিজেকে অসহায় ভাবা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না ।
২। আমাদের সমাজব্যবস্থা কারনে অনেক নারী মনে করে, ছেলে হলে অনেক কিছু করতে পারতেম, মেয়ে বলে করতে পারব না । কারন, সব জায়গায় তাদের নিতাপত্তা নাও থাকতে পারে।
৩। নারীরা তাদের মতামত স্বাচ্ছন্দে প্রকাশ করতে পারে না। কারন আমাদের সমাজব্যবস্থায় চাকরি বা পরিবারে নারীদের মতামতের মূল্য কম ।
৪। চাকরি, ব্যবসায়, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাদই দিলাম শুধু যদি পরিবারের কথাই চিন্তা করে দেখুন, বেশী ভাগ পরিবারে যে পর্যন্ত ছেলে সন্তান না হবে সে পর্যন্ত সন্তান নেয়া বন্ধ হয় না। কারন, আমাদের দেশের মানুষ মনে করে মেয়ে সন্তান তার পরিবারের বা বংশের নাম উজ্জ্বল করতে পারবেন না।
৫। পরনির্ভরশীল থাকার কারণে নারীরা জীবনে এগিয়ে যেতে পারছে না। কারন, বিয়ের আগে বাবার প্রতি আর বিয়ের পর স্বামীর প্রতি নির্ভরশীল থাকে, যা ফলে দিন দিন তার অস্তিত হারিয়ে যায় ।
এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র
সব সমস্যা এক মাত্র সমাধান আপনাকে হতে হবে স্বাবলম্বী কিন্তু আপনার স্বামী, পরিবার, সবাইকে খুশি রেখে । তার জন্য, বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের একটি অনন্য সুযোগ খুলে দিয়েছে অনলাইন জগত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই সামাজিক সংযোগ স্থাপনে সক্ষম হচ্ছে, সেই সাথে তৈরী করে নিতে পারছে নিজেদের কর্মক্ষেত্র। একদিকে যেমন পরিবারের প্রতি যেমন সময় দিতে পাচ্ছে তেমনই ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে পাচ্ছে । ইন্টারনেট এমন একটি যায়গা যেখানে নারীরা তাদের মতামত স্বাচ্ছন্দে প্রকাশ করতে পারে। এজন্যে আমদের দেশের নারীরা অর্থ উপার্জনের তথা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ইন্টারনেট ভিত্তিক উৎস গুলোকে বেছে নিতে পারেন ।
আপনি গ্রাফিস ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, এসইও, ইমেইল মার্কেটিং, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি যে কোন একটা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে অনলাইন আরনিং শুরু করতে পারেন ।

Leave your comment
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন